খোদাভীতি ও পরহেযগারি ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━

তাকওয়া ও খোদাভীতি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার মধ্যে গণ্য। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলার আযাব ও আখেরাতের জবাবদিহিতাকে স্মরণ করে সকল প্রকার মন্দকর্ম থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহ পাকের সমস্ত বিধানাবলি মেনে চলা। অর্থাৎ যে বিষয়গুলি আল্লাহ পাক আমাদের উপর ফরজ করেছেন এবং আমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেকের উপর যে হকসমূহ আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা আন্তরিকভাবে আদায় করা এবং আল্লাহ তাআলার নিষেধ-করা বিষয় থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা। কোরআন ও হাদীসের বহু জায়গায় বহুবার তাকওয়া অর্জনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো যেমন ভয় করা উচিৎ (এবং শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত তাকওয়া ও খোদাভীতির ছায়াতলে দ্বীনের হুকুম-আহকাম মেনে চলতে থাকো,) যেন আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে নিমগ্ন অবস্থায় তোমাদের মরণ হয়। সূরা আলে ইমরান ৩/১০২

অন্য আয়াতে বলেন,

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا

আল্লাহ তাআলাকে যথাসম্ভব ভয় করো এবং তাঁর হুকুম-আহকাম (আলেমগণের কাছ থেকে) শোনো ও মানো। সূরা তাগাবুন ৬৪/১৬

আরেকটি আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোদাভীতির গুণ অর্জন করো, আর আগামী দিনের জন্য কী আমল করেছো তা ভেবে দেখো। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো, যিনি তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে অবগত। সূরা হাশর ৫৯/১৮

যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে এবং তাকওয়ার যিন্দেগী গড়ে তোলে, দুনিয়াতেই আল্লাহ পাক তাদের প্রতি বিশেষ দয়া ও করুণার আচরণ করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,

وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا. وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

যার দিলে খোদার ভয় রয়েছে এবং যে তাকওয়ার জীবন যাপন করে, আল্লাহ পাক তাকে সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুলেই দেন এবং এমন উপায়ে জীবিকা দান করেন, যা তার কল্পনাতেও আসে না। সূরা তালাক ৬৫/২-৩

যাদের জীবন তাকওয়াপূর্ণ তারা আল্লাহপাকের ওলী ও দোস্ত। কোনো কিছুতে তাদের দুঃখ-ভয় থাকে না। আল্লাহ পাক বলেন,

أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

ওহে! যারা আল্লাহর ওলী, তাদের কোনো দুঃখ-দুশ্চিন্তা নেই। তারা হলো সত্যিকারের ঈমান ও তাকওয়ার অধিকারী। দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় জীবনে তাদের জন্য সুসংবাদ ! সূরা ইউনুস ১০/৬২

আখেরাতে মুত্তাকী পরহেজগার ব্যক্তি কী অশেষ নেয়ামত লাভ করবে তার সামান্য ঝলক রয়েছে সামনের আয়াতে। আল্লাহ পাক বলেন,

قُلْ أَؤُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرٍ مِنْ ذَلِكُمْ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি কি তোমাদেরকে সেই বস্তুর কথা বলবো, যা তাবৎ পৃথিবীর সমুদয় কাম্য বস্তু হতেও উত্তম? শোনো তাহলে, এমন জান্নাত ও বাগানবাড়িসমূহ, যা তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রস্তুত রয়েছে, যার পাদদেশ দিয়ে নহরমালা প্রবহমান। মুত্তাকীরা অনন্তকাল সেখানে অবস্থান করবে। সেখানে থাকবে তাদের জন্য পূতপবিত্র সঙ্গিনী, আর থাকবে আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে বিশেষ রেজা ও সন্তুষ্টি। আর বান্দাদের তাকওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা খুবই অবগত। সূরা আলে ইমরান ৩/১৫

আরেকটি আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,