কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত -মুফতী মনসূরুল হক (দা. বা.) ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
১. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথ চলার সময় রাস্তা হতে লোকদের ধাক্কানো বা সরানো হত না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ১৪২৩৬)
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কেউ কিছু চাইলে তিনি কখনও না বলতেন না। (অর্থাৎ প্রার্থিত জিনিস থাকলে তা দিয়ে দিতেন, আর না থাকলে অপারগতা প্রকাশ করতেন।) (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ১৪২৯৪)
৩. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো মুখ হতে স্বীয় চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সে তার চেহারা ফিরিয়ে নিত। কোন ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কানে কানে কোন কথা বলতে চাইলে তিনি তার দিকে স্বীয় কান মুবারক বাড়িয়ে দিতেন এবং যতক্ষণ তার কথা শেষ না হতো, ততক্ষণ স্বীয় কর্ণ মুবারক সরিয়ে নিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৭১৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪৭৯৪)
৪. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষাতকালে নিজেই আগে সালাম করতেন, তারপর দু’হাতে মুসাফাহা করতেন। অনেক দিন পর কারো সাথে সাক্ষাত হলে তার সাথে মু‘আনাকাও করতেন। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫২১৪/ বুখারী শরীফ হাদীস নং- ৬২৬৫-৬২৬৬)
বি.দ্র. সালাম দেয়ার সময় হাত তোলা বিধর্মীদের নীতি। সুতরাং হাত তুলবে না। তবে আওয়াজ না পৌঁছার আশংকা থাকলে হাত তুলতে পারে। কিন্তু স্যালুটের মত করে হাত তুলবে না। আর মুসাফাহার সময় প্রত্যেকের এক হাত অপর ব্যক্তির দু‘হাতের মাঝখানে থাকবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬২৬৫)
অমুসলিমদের হ্যান্ডসেকের মত করে হাত ধরবে না। মু‘আনাকার সময় উভয় ব্যক্তি নিজের ডান গর্দান একবার মিলাবে। সাধারণত লোকেরা উভয় দিকে তিনবার সিনা মিলিয়ে থাকে এবং ঈদের দিন মু‘আনাকার ধুম পড়ে যায়। এর কোন ভিত্তি নেই।
৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকে বিদায় দেয়ার সময় মুসাফাহা করতেন এবং এই দু‘আ পড়তেনঃ
اَسْتَوْدِ عُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَاَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ اَعْمَالِكُمْ.
(আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৬০১)
এবং যাকে বিদায় দিতেন তিনি এ দু‘আটি পড়তেনঃ
اَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ.
(ইবনে মাজাহ হাদীস নং- ২৮২৫)
৬. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন পছন্দনীয় জিনিস হাসিল করলে এই দু‘আ পড়তেনঃ
اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهٖ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ.
(ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৮০৩)
৭. পক্ষান্তরে মনের ইচ্ছার ব্যতিক্রম কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেন:
اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰی كُلِّ حَالٍ.
(ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৮০৩)
৮. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেনঃ